স্টাফ রিপোর্টার ।। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা নগরীর দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ‘খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে গঠিত কমিটি’র সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।এদিকে, যশোর ফের লকডাউন হচ্ছে- এমন কথাবার্তা গেল কয়েকদিন যাবৎ বাতাসে ভাসছে। তবে জেলা প্রশাসক এটাকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তথ্য অধিদফতরের খুলনা আঞ্চলিক দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদের পর জেলায় দ্রুত করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দোকান পাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৃহস্পতিবার থেকে ফুটপাতে কোনো হকার অবস্থান করবেন না। ইজিবাইকসহ অন্যান্য যান চলাচল সীমিত করা হবে। মানুষের ভীড়, মাস্ক ছাড়া চলাচল বরদাশত করা হবে না। মাস্ক ব্যবহার সত্ত্বেও নাক-মুখ উন্মুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। সভায় খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হন খুলনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. কামাল হোসেন।
সভায় খুলনা মেডিকেল কলেজে আরেকটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে বিরাজমান ল্যাবে দিনে সর্বাধিক ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়; যা যথেষ্ট না। এছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজেও করোনাভাইরাস পরীক্ষায় একটি ল্যাব স্থাপনসহ স্বাস্থ্য সুবিধা বাড়ানোর জন্য আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় আগামী ১১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ও কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এই সময়কালে সন্ধ্যার পর চলাচল বন্ধ থাকবে। ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দোকান এবং জরুরি সেবা ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
সভায় জানানো হয়, দুপুর পর্যন্ত খুলনা জেলায় মোট ২১৭ জন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।
এর মধ্যে ১৪২ জন নগরীর বাসিন্দা। আজকের সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ প্রমুখ। এদিকে, যশোরেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে দেড়শ’ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যশোরকে সহসাই লকডাউন করা হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোরের জেলা প্রশাসক ও ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ আজ বিকেলে আমাদের বাংলাদেশে ডটকমকে জানান, এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারি কোনো নির্দেশনা জারি হলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র আগামী সভা কবে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার সভা হতে পারে।‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায়ই এর আগে এক দফা যশোরকে লকডাউন করা হয়েছিল। এখন এমন ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা ওই কমিটির সভাতেই হবে।
‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সবশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ৬ জুন। ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যশোরে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গেল তিনদিন যশোর শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশকে তৎপরতা চালাতে দেখা যাচ্ছে। সভার মতামতের আলোকে স্বাস্থ্য বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এগিয়ে নিয়েছে।